ব্যথা-বেদনা মুক্ত সুস্থ শরীর কে না চায়? বর্তমান আধুনিক যুগে আমরা যখনই অসুস্থ হই, তখনই ছুটে যাই নানাবিধ ওষুধের পেছনে। কিন্তু আপনি কি জানেন, হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ এমন এক প্রাকৃতিক ও অলৌকিক নিরাময় পদ্ধতির ওপর ভরসা করে আসছে, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই? হ্যাঁ, আমরা কথা বলছি হিজামা বা কাপিং থেরাপি (Hijama Cupping Therapy) নিয়ে।
আজকের দিনে হিজামা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম হলেও, এর পেছনে রয়েছে এক সমৃদ্ধ এবং রোমাঞ্চকর ইতিহাস। চলুন আজকে জেনে নেওয়া যাক, হিজামা থেরাপি কারা শুরু করেছিল, কবে থেকে এর প্রচলন এবং কীভাবে এটি যুগের পর যুগ পার হয়ে আজ আমাদের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে।
হিজামা কী এবং এর প্রাচীন সূচনা (কারা এবং কবে শুরু করেছিল?)
‘হিজামা’ শব্দটি আরবি ‘আল-হাজম’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘চোষা’ বা ‘টেনে নেওয়া’। এটি এমন একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে চামড়ার ওপর বিশেষ কাপ বসিয়ে ভ্যাকুয়াম (শূন্যতা) তৈরি করা হয় এবং এর মাধ্যমে শরীরের দূষিত বা টক্সিনযুক্ত রক্ত বের করে আনা হয়।
১. প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০ অব্দ)
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, হিজামার সবচেয়ে পুরোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাচীন মিশরে। খ্রিস্টপূর্ব ১৫৫০ অব্দে লিখিত বিখ্যাত চিকিৎসা গ্রন্থ ‘এবারস প্যাপাইরাস’ (Ebers Papyrus)-এ কাপিং থেরাপির স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন মিশরীয়রা রক্ত শুদ্ধ করতে এবং বিভিন্ন জ্বর-জারি ও ব্যথা নিরাময়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার করত।
২. প্রাচীন চীনা ঐতিহ্য
মিশরীয়দের পাশাপাশি প্রাচীন চীনা চিকিৎসায়ও কাপিং থেরাপির ব্যাপক ব্যবহার ছিল। বিখ্যাত চীনা ভেষজবিদ জি হং (Ge Hong) প্রায় ১৭০০ বছর আগে এই থেরাপিকে চিকিৎসায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। চীনারা বিশ্বাস করত, কাপিং শরীরের “ছি” (Qi) বা জীবনী শক্তির প্রবাহকে সচল রাখে।
৩. গ্রীক ও রোমান সভ্যতা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিস (Hippocrates) এবং পরবর্তীকালে রোমান চিকিৎসক গ্যালেন (Galen) তাদের রোগীদের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রোগ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ দূর করতে কাপিং থেরাপির পরামর্শ দিতেন।
ইসলামে হিজামা: এক অনন্য মর্যাদা
হিজামার ইতিহাস সুপ্রাচীন হলেও, এই চিকিৎসা পদ্ধতি পূর্ণতা এবং এক স্বর্গীয় মর্যাদা পায় ইসলাম ধর্মের আগমনের পর। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হিজামাকে সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করো, তার মধ্যে হিজামাই হচ্ছে সর্বোত্তম।” (সহীহ বুখারী)
ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী, মেরাজের রাতে ফেরেশতাদের দল আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে তাঁর উম্মতের জন্য হিজামা করার নির্দেশ দিতে বলেছিলেন। ফলে মুসলিম বিশ্বে এটি অত্যন্ত বরকতময় ও সুন্নতি চিকিৎসা হিসেবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
কালান্তরে হিজামা: কীভাবে দিন দিন চলছে এর বিবর্তন?
প্রাচীনকালে হিজামা করার পদ্ধতি আজকের মতো এত আধুনিক ছিল না। যুগের সাথে সাথে এর কাপ এবং কৌশলে এসেছে বিশাল পরিবর্তন:
- আদিম যুগ: শুরুতে মানুষ পশুর শিং (যেমন মহিষ বা গরুর শিং) ব্যবহার করে মুখ দিয়ে বাতাস চুষে ভ্যাকুয়াম তৈরি করত। একে ‘বাঁশ বা শিং কাপিং’ বলা হতো।
- মধ্যযুগ: শিংয়ের জায়গা দখল করে নেয় বাঁশ এবং পরবর্তীতে মাটির পাত্র ও কাঁচের কাপ। কাঁচের কাপের ভেতর আগুনের শিখা দিয়ে অক্সিজেন পুড়িয়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হতো, যা আজ ‘ফায়ার কাপিং’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক যুগ: বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত। এখন সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত উপায়ে ডিসপোজেবল প্লাস্টিক বা সিলিকন কাপ এবং সাকশন পাম্পের সাহায্যে হিজামা করা হয়। আধুনিক হিজামায় শতভাগ হাইজিন বা জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।
আজকের দিনে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বিশ্বের নামকরা অ্যাথলেট, অলিম্পিক মেডেল বিজয়ী (যেমন মাইকেল ফেলপস) এবং হলিউড-বলিউডের সেলিব্রিটিরা তাদের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং পেশির ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত হিজামা থেরাপি নিচ্ছেন।
আপনার শহরেই আধুনিক হিজামা সেবা: এস ইসলাম হেলথ কেয়ার
প্রাচীন এই সুন্নতি ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি এখন অত্যন্ত আধুনিক ও নিরাপদ উপায়ে সেবা দিচ্ছে এস ইসলাম হেলথ কেয়ার। আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে পিঠ ব্যথা, কোমর ব্যথা, মাইগ্রেন, বাত ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন, কিংবা শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে রিফ্রেশ হতে চান, তবে হিজামা হতে পারে আপনার সেরা সমাধান।
কেন আসবেন এস ইসলাম হেলথ কেয়ারে?
- অভিজ্ঞ ও দক্ষ থেরাপিস্ট: সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও সুন্নতি নিয়মে হিজামা করা হয়।
- শতভাগ হাইজিন ও নিরাপত্তা: আমরা প্রতিটি রোগীর জন্য ওয়ান-টাইম/ডিসপোজেবল (Disposable) কাপ ও ব্লেড ব্যবহার করি, যার ফলে ইনফেকশনের কোনো সুযোগ নেই।
- ব্যথামুক্ত অভিজ্ঞতা: অত্যন্ত নিখুঁত ও আধুনিক সাকশন পদ্ধতিতে হিজামা করা হয়, যা প্রায় ব্যথামুক্ত।
আমাদের ঠিকানা:
এস ইসলাম হেলথ কেয়ার
চকবাজার, কুমিল্লা জেলা।
শরীরের ক্লান্তি আর ব্যথাকে বিদায় জানিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে আজই যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। আপনার সুস্থতাই আমাদের মূল লক্ষ্য।


