সুস্থ ও ব্যথামুক্ত শরীরের জন্য হিজামা বা কাপিং থেরাপি আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে আজকের দিনে আমরা যে আধুনিক ও আরামদায়ক হিজামা পদ্ধতি দেখি, হাজার বছর আগে তা কিন্তু এমন ছিল না। মূলত প্রাচীন যুগে মানুষ অত্যন্ত আদিম এবং কঠিন কিছু কৌশলের মাধ্যমে শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করত।
চলুন আজকে জেনে নেওয়া যাক, প্রাচীনকালের হিজামা পদ্ধতি কেমন ছিল এবং যুগের বিবর্তনে আজ এটি কীভাবে পুরোপুরি বদলে গেছে।
প্রাচীনকালের হিজামা থেরাপি পদ্ধতি কেমন ছিল?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রাচীন মিশরীয়, চীনা ও গ্রীক সভ্যতায় হিজামার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তবে সেই সময়ে আজকের মতো উন্নত কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। ফলে তারা প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে ভ্যাকুয়াম (বাতাস শূন্য অবস্থা) তৈরি করত।
- পশুর শিং বা বাঁশের ব্যবহার: আদিম যুগে মানুষ সাধারণত গরু বা মহিষের শিং ব্যবহার করে হিজামা করত। তারা শিংয়ের ভেতরের অংশটি চামড়ার ওপর বসাত এবং অপর প্রান্ত দিয়ে মুখ দিয়ে বাতাস চুষে ভ্যাকুয়াম তৈরি করত। তাছাড়া অনেক সময় শিংয়ের বদলে ফাঁপা বাঁশের টুকরোও ব্যবহার করা হতো।
- আগুনের সাহায্যে কাপিং (ফায়ার কাপিং): সভ্যতার একটু উন্নতির পর মানুষ মাটির পাত্র এবং কাঁচের কাপ ব্যবহার করা শুরু করে। কাপের ভেতরে সামান্য আগুন বা জ্বলন্ত তুলা দিয়ে ভেতরের অক্সিজেন পুড়িয়ে ফেলা হতো। এর ফলে কাপটি চামড়ার সাথে শক্তভাবে আটকে যেত এবং ভেতরের রক্ত উপরিভাগে চলে আসত।
- তীক্ষ্ণ পাথর বা পশুর হাড় দিয়ে চামড়া কাটা: প্রাচীনকালে রক্ত বের করার জন্য আজকের মতো নিখুঁত সার্জিক্যাল ব্লেড ছিল না। তাই তারা ধারালো পাথর, পশুর হাড় কিংবা বিশেষ গাছের কাঁটা দিয়ে চামড়ায় ছোট ছোট আঁচড় কাটত।
যদিও এই পদ্ধতিগুলো বেশ কষ্টদায়ক এবং কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবুও প্রাচীন মানুষ রোগ মুক্তির জন্য এর ওপরই ভরসা করত।
বর্তমান যুগে কীভাবে এটা পাল্টাইছে? (আধুনিক হিজামা)
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে প্রাচীন সেই কষ্টদায়ক পদ্ধতিটি আজ অত্যন্ত সহজ, নিরাপদ এবং বৈজ্ঞানিক একটি রূপ নিয়েছে। বর্তমান হিজামা পদ্ধতিতে যেসব বড় পরিবর্তন এসেছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
- সাকশন পাম্পের ব্যবহার: এখন আর মুখ দিয়ে বাতাস চোষা বা আগুনের সাহায্যে কাপ বসানোর প্রয়োজন হয় না। বরং আধুনিক প্লাস্টিক বা সিলিকনের কাপ বসিয়ে একটি নিখুঁত ‘হ্যান্ড সাকশন পাম্প’-এর সাহায্যে খুব সহজে এবং ব্যথামুক্ত উপায়ে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়।
- শতভাগ হাইজিন ও ওয়ান-টাইম কাপ: প্রাচীনকালে একই শিং বা পাত্র একাধিক মানুষের শরীরে ব্যবহার করা হতো, যা ছিল অনিরাপদ। তবে বর্তমানে আধুনিক হিজামায় প্রতিটি রোগীর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং ওয়ান-টাইম (Disposable) প্লাস্টিক কাপ ও ব্লেড ব্যবহার করা হয়। এর ফলে রক্তবাহিত কোনো রোগ ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
- সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে নিখুঁত স্ক্র্যাচ: এখন চামড়ায় আঁচড় কাটার জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জীবাণুমুক্ত সার্জিক্যাল ব্লেড ব্যবহার করা হয়। এটি এতটাই নিখুঁতভাবে করা হয় যে রোগী সামান্য পিঁপড়া কামড়ের মতো অনুভূতি পান এবং কোনো গভীর ক্ষত তৈরি হয় না।
এর ফলে আধুনিক হিজামা পদ্ধতিটি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং শতভাগ ব্যথামুক্ত একটি আরামদায়ক চিকিৎসায় পরিণত হয়েছে।
এস ইসলাম হেলথ কেয়ারে আধুনিক হিজামা সেবা
প্রাচীন এই সুন্নতি চিকিৎসাটি আপনি যদি একদম নিরাপদ ও আধুনিক উপায়ে করাতে চান, তবে চলে আসতে পারেন কুমিল্লার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এস ইসলাম হেলথ কেয়ার-এ।
আমাদের এখানে অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত পরিবেশে ওয়ান-টাইম কাপ ও আধুনিক ইকুইপমেন্টের সাহায্যে হিজামা থেরাপি দেওয়া হয়।
আমাদের ঠিকানা:
এস ইসলাম হেলথ কেয়ার
চকবাজার, কুমিল্লা জেলা।
শরীরের ক্লান্তি, পিঠ-কোমর ব্যথা কিংবা মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে আজই যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। আপনার সুস্থতাই আমাদের মূল লক্ষ্য।


