সুস্থ থাকা আল্লাহর বড় নেয়ামত। মূলত শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) চমৎকার কিছু উপায় শিখিয়ে গেছেন। তাছাড়া তাঁর দেখানো পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সেরা মাধ্যম হলো হিজামা বা কাপিং থেরাপি।
হিজামা শুধু একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তবে বছরের যেকোনো দিন হিজামা করা গেলেও, নির্দিষ্ট কিছু দিনে হিজামা করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
চলুন আজকে সহজ ভাষায় জেনে নিই হিজামার সুন্নাহ তারিখ কোনগুলো এবং এই দিনগুলোর আসল গুরুত্ব কী।
হিজামার সুন্নাহ তারিখ কোনগুলো?
ইসলামী নির্দেশনা অনুযায়ী, চান্দ্র মাস বা আরবি মাসের নির্দিষ্ট কিছু তারিখে হিজামা করা সুন্নাত।
বিশেষ করে হাদিস অনুযায়ী, প্রতি হিজরি মাসের ১৭, ১৯ এবং ২১ তারিখ হিজামা করার জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়।
এ বিষয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আরবি মাসের ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে হিজামা করাবে, তা সমস্ত রোগ-ব্যাধির আরোগ্য হিসেবে কাজ করবে।” (সুনানে আবু দাউদ)
তাছাড়া সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার হিজামা করার জন্য বেশ ভালো দিন।
সুন্নাহ তারিখে হিজামা করার উপকারিতা ও ফজিলত
সুন্নাহ দিনগুলোতে হিজামা করার পেছনে অনেক শারীরিক ও মানসিক কল্যাণ রয়েছে। যেমন:
- রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত মেনে এই নির্দিষ্ট দিনে হিজামা করলে শরীর দ্রুত রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পায়।
- চিকিৎসার পাশাপাশি নবীজির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত জিন্দা করার সওয়াব আমলনামায় যুক্ত হয়।
- এর ফলে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত বর্জ্য খুব সহজে বের হয়ে আসে।
সুন্নাহ তারিখের পেছনের বৈজ্ঞানিক রহস্য
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, আরবি মাসের ১৭, ১৯ বা ২১ তারিখেই কেন হিজামা করতে বলা হলো? মূলত আধুনিক বিজ্ঞান এর পেছনে এক দারুণ তথ্য খুঁজে পেয়েছে:
- চাঁদের আকর্ষণ: আমরা জানি, চাঁদের আকর্ষণের কারণে সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা হয়। বিশেষ করে হিজরি মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের দিকে (পূর্ণিমার সময়) চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- রক্তের চাপ বৃদ্ধি: মানুষের শরীরেও প্রচুর পানি ও তরল পদার্থ থাকে। ফলে চাঁদের আকর্ষণে এই দিনগুলোতে মানবদেহে রক্ত সঞ্চালন এবং রক্তের চাপ কিছুটা বেড়ে যায়।
- বর্জ্য বের করার সেরা সময়: তবে পূর্ণিমা পার হওয়ার পর, অর্থাৎ ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে রক্তের সেই অতিরিক্ত চাপ কমতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের সব দূষিত উপাদান ও মরা রক্তকণিকাগুলো চামড়ার ঠিক নিচে এসে জমা হয়।
ঠিক এই সময়ে হিজামা করলে শরীরের কোনো ভালো রক্ত নষ্ট হয় না। বরং জমে থাকা দূষিত রক্তগুলো খুব সহজে বের হয়ে আসে। ফলস্বরূপ শরীর দ্রুত চনমনে হয়ে ওঠে।
এস ইসলাম হেলথ কেয়ারে সুন্নাহ ভিত্তিক হিজামা সেবা
আপনিও কি সুন্নাত পদ্ধতি মেনে এবং নিরাপদ উপায়ে হিজামা করাতে চান? তবে আজই চলে আসুন কুমিল্লার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এস ইসলাম হেলথ কেয়ার-এ।
আমাদের এখানে প্রতি আরবি মাসের সুন্নাহ তারিখগুলোতে বিশেষ যত্নে হিজামা থেরাপি দেওয়া হয়।
- সুন্নাহ ও আধুনিকতা: পুরোপুরি সুন্নতি নিয়ম মেনে, আধুনিক সাকশন কাপের মাধ্যমে ব্যথামুক্ত উপায়ে হিজামা করা হয়।
- শতভাগ জীবাণুমুক্ত: আমরা প্রতি রোগীর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং ওয়ান-টাইম (Disposable) কাপ ও ব্লেড ব্যবহার করি। এর ফলে ইনফেকশনের কোনো সুযোগ থাকে না।
- দক্ষ থেরাপিস্ট: অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে থেরাপি দেওয়া হয়।
আমাদের ঠিকানা: এস ইসলাম হেলথ কেয়ার চকবাজার, কুমিল্লা জেলা।
শরীরের দীর্ঘদিনের ব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতে সুন্নাহ দিনগুলোতে হিজামা করান। ফলস্বরূপ সুস্থ ও প্রাণবন্ত জীবন গড়ুন।


