বর্তমান যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানে হোমিওপ্যাথি
বর্তমান যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রোগবোধ, চিকিৎসা গ্রহণের ধরন ও প্রত্যাশাও পাল্টে যাচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যেমন দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শঙ্কাও অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। এ বাস্তবতায় হোমিওপ্যাথি ধীরে ধীরে মানুষের আস্থার জায়গা দখল করে নিচ্ছে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, ব্যয় সাশ্রয়ী এবং রোগের মূল কারণ নিরাময়ে গুরুত্ব—এই তিন বৈশিষ্ট্যই পদ্ধতিটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
হোমিওপ্যাথি মূলত “সদৃশং সদৃশং চিকিৎসয়েত” নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ যেই উপাদান সুস্থ মানুষের শরীরে কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে, সেই উপাদানই অত্যন্ত ক্ষুদ্রমাত্রায় রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে উপসর্গ নিরাময় হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, পৃথিবীর বহু দেশে ব্যাপকভাবে এ চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামীণ ও শহুরে উভয় পরিবেশেই বর্তমানে মানুষ সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি থেকে শুরু করে চর্মরোগ, অ্যালার্জি, গ্যাস্ট্রিক, মানসিক চাপ, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথিকে একটি নিরাপদ বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশেষ করে যেসব রোগী দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন, আধুনিক চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন বা দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবনে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য হোমিওপ্যাথি হয়ে উঠছে আশার আলো। তবে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে একজন অভিজ্ঞ ও রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ রোগীর শারীরিক গঠন, মানসিক অবস্থা, অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের প্রকৃতি সবকিছু বিবেচনা করে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা এ পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
হোমিওপ্যাথির উন্নয়ন, গবেষণা এবং মান নিয়ন্ত্রণে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা হলে হোমিওপ্যাথি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। সবশেষে বলা যায়, হোমিওপ্যাথি শুধু একটি বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি নয়, বরং মানবিক চিকিৎসার একটি শান্ত, নিরাপদ এবং সহমর্মিতাপূর্ণ দিগন্ত। সঠিক প্রয়োগ ও গবেষণার মাধ্যমে এ পদ্ধতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হতে পারে অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান।
লেখক- চেয়ারম্যান ও চিকিৎসক, এস ইসলাম হেলথ কেয়ার, চকবাজার, কুমিল্লা


