কাপিং থেরাপি একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন চীন, মিশর এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর ব্যবহার পাওয়া যায়। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা জগতেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।কাপিং থেরাপিতে কাঁচ, বাঁশ বা সিলিকন কাপ ব্যবহার করা হয়। এই কাপগুলো শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে বসানো হয় এবং ভেতরে ভ্যাকুয়াম তৈরি করা হয়। ফলে ত্বক ও আশেপাশের টিস্যু কাপের ভেতরে টেনে নেওয়া হয়। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং ব্যথা কমায়। কাপিং থেরাপি শুধু শরীর নয়, মনকেও দেয় প্রশান্তি। নিয়মিতভাবে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এই থেরাপি গ্রহণ করলে শরীর আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে
❑ ইসলামিক দৃষ্টিকোণ
ইসলামে কাপিং থেরাপি (Hijama) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুন্নাহ ভিত্তিক চিকিৎসা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমরা হিজামা (কাপিং) এর মাধ্যমে চিকিৎসা কর, এর মধ্যে অনেক শিফা আছে।” (সহীহ বুখারি, মুসলিম) এজন্য মুসলিম বিশ্বে এটি একটি প্রচলিত এবং সম্মানজনক চিকিৎসা পদ্ধতি।
❑ কাপিং থেরাপির ধরণ
◈ Dry Cupping (শুকনো কাপিং)
শুধু কাপ বসানো হয়, কোনো রক্ত বের হয় না।
ব্যথা কমানো ও রিল্যাক্সেশনের জন্য ভালো।
◈ Wet Cupping (ভেজা কাপিং / হিজামা)
কাপ বসানোর পর ছোট কাট দিয়ে রক্ত বের করা হয়।
শরীরের টক্সিন ও ক্ষতিকর উপাদান বের করতে সহায়তা করে।
◈ Massage Cupping (ম্যাসাজ কাপিং)
তেল দিয়ে কাপ সরানো হয়।
পেশী ব্যথা, টেনশন ও স্ট্রেস কমায়।
❑ কাপিং থেরাপির উপকারিতা
◈ শরীর থেকে দূষিত রক্ত ও টক্সিন বের করে।
◈ পেশী ও জয়েন্ট ব্যথা কমায়।
◈ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে → হার্ট ও ব্রেইনের জন্য ভালো।
◈ স্ট্রেস, টেনশন, উদ্বেগ কমায়।
◈ মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা উপশমে সহায়ক।
◈ ত্বকের সমস্যা (acne, eczema) উন্নত করে।
◈ ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে।
◈ ডিটক্সিফিকেশন (শরীর পরিশুদ্ধ করা)-তে সাহায্য করে।
❑ সতর্কতা
◈ প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ থেরাপিস্ট ছাড়া করা উচিত নয়।
◈ গর্ভবতী, ডায়াবেটিক রোগী, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাওয়াদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
◈ কাপিং করার পর ২৪ ঘন্টা বিশ্রাম ও প্রচুর পানি খাওয়া ভালো।


